বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের আয় প্রতিঘন্টা ১৮ ডলার

বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের আয় প্রতিঘন্টা ১৮ ডলার
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে বাড়ছে ফ্রিল্যান্সার, বাড়ছে তাঁদের চাহিদা। একই সঙ্গে বাড়ছে তাঁদের আয়ও। তবে অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশিরা মজুরি পান কম। ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পেওনিয়ারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে যাঁদের স্নাতক ডিগ্রি আছে, তাঁরা ঘণ্টাপ্রতি গড়ে ২০ ডলার আয় করেন।

বিশ্বব্যাপী আর্থিক লেনদেন সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ‘২০২৩ ফ্রিল্যান্সার ইনসাইটস রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা এ কাজের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অবস্থান করে নিতে পেরেছেন। এখন ওয়েব ও গ্রাফিক ডিজাইন, মার্কেটিং ও প্রোগ্রামিংয়ের কাজে তাঁদের দখল বেশি দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কার মধ্যেও বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের কাজের চাহিদা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এ চাহিদা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে এতে বলা হয়।

পেওনিয়ার জরিপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের ৮৩ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের কম। পেওনিয়ার বলছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের বয়স কম। তবে ঘণ্টাপ্রতি গড় আয়ে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা এখনো পিছিয়ে।

জাপানের অর্থনীতি-বাণিজ্যবিষয়ক সংবাদপত্র নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা ঘণ্টাপ্রতি গড়ে ১০ ডলারের কম আয় করতেন। কিন্তু পেওনিয়ারের জরিপ বলছে, এখন তা ১৮ ডলার। এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে তা ২০ ডলার। আর অন্যান্য অঞ্চলে তা ২৬ ডলার।

কম আয় প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার জাকির হোসেইন বলেন, যেহেতু দেশে কম বয়সী ফ্রিল্যান্সার বেশি, তাই শুরুতে তাঁদের বেশি মজুরিতে কেউ কাজ দিতে চায় না।

পেওনিয়ারের জরিপ বলছে, বাংলাদেশের ৯৩ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার কোনো একটি প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট হারে বা ঘণ্টাভিত্তিক মজুরিতে করে থাকেন। যাঁদের স্নাতক ডিগ্রি আছে, তাঁরা অন্যদের চেয়ে ঘণ্টাপ্রতি বেশি আয় করেন।

জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে যাঁদের স্নাতক ডিগ্রি আছে, তাঁরা ঘণ্টাপ্রতি গড়ে ২০ ডলার আয় করেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত যারা পড়েছেন, তাঁদের আয় ১৬ ডলার। তার নিচে যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, তাঁদের আয় ঘণ্টাপ্রতি ২ ডলার।

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার বাড়ছে জানিয়ে পেওনিয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁদের (ফ্রিল্যান্সার) কাজের ফরমাশ নেওয়ার পরিমাণ ও কর্মদাতা (ক্লায়েন্ট) বেড়েছে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘণ্টাপ্রতি মজুরিও বাড়িয়ে দিয়েছেন ফ্রিল্যান্সাররা। দেশে এখন প্রায় সাড়ে ১০ লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন বলে জানান বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (বিএফডিএস) চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান।

ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। পেওনিয়ারের জরিপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের ৮৩ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার বলেছেন, ফ্রিল্যান্সিং বা নিজস্ব ব্যবসাই এখন তাঁদের পেশা। এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে যা ৭১ শতাংশ। আর অন্যান্য অঞ্চলে তা ৬৭ শতাংশ।

পেওনিয়ারের জরিপে উঠে এসেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার তাঁদের কাজের মজুরি বাড়িয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা বেশি বেশি কাজ নিচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁরা নতুন নতুন দেশে কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব ফ্রিল্যান্সারই জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে তাঁদের সমন্বয় করে চলতে হচ্ছে।

পেওনিয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাজ খোঁজার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা অনলাইনভিত্তিক বাজারব্যবস্থা বা অনলাইন মার্কেটপ্লেসের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। কাজ খুঁজতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কম ব্যবহার করেন তাঁরা। আর কর্মদাতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে, এমন কোনো কাজ করেন না বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা।

বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (বিএফডিএস) চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকাকে বলেন, অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর কিছু নীতিমালা আছে। অনেকে তা না মেনে কাজ করেন। এতে তাঁদের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে উন্নতির তাগিদ দেন তিনি।