পুরুষের শার্টের বোতাম ডানে কিন্তু নারীদের কেনো বামে?

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ফ্যাশনের নাম ইউনিসেক্স। এটি এমন এক ফ্যাশন যা করতে পারেন নারী-পুরুষ উভয়ই। চশমা থেকে শুরু করে জিন্স, টি-শার্টসহ আরো অনেক ধরনের পোশাকই ইউনিসেক্স।

পুরুষরা একটা সময় সাধারণত পরতেন শার্ট। কিন্তু বর্তমানে শার্ট পরছেন নারীরাও। তবে এই দুটি শার্টের মধ্যে রয়েছে বড় একটি পার্থক্য। পার্থক্যটি হলো, যেখানে পুরুষের শার্টের বোতাম থাকে ডান দিকে, সেখানে সবসময় নারীদের শার্টের বোতাম থাকে বাম দিকে।

নারীরা ফ্যাশন করে বামদিকে বোতাম ব্যবহার করেন একথাটা মোটেও ঠিক নয়। বরং বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে এর পেছনে।

চলুন কারণগুলো জেনে নেয়া যাক:-

প্রাচীনকাল থেকে ছেলেরা সাধারণত নিজের শার্ট নিজেই পরে থাকে। তিনি রাজা-মহারাজাই হোন কিংবা সাধারণ কেউ। কিন্তু সেই সময়ে সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের জন্য বাড়িতে দাসী থাকতো। তারাই শার্ট পরিয়ে দিতেন। শার্ট পরিয়ে দাসীরা সামনে থেকে শার্টের বোতাম লাগিয়ে দিতেন। তাদের সুবিধার জন্যই মেয়েদের শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হতো বলে কথা প্রচলিত আছে।

এছাড়া প্রাচীন রাজাদের আমলে ছেলেরা যখন ঘোড়া নিয়ে ছুটতেন তখন রাস্তার বাম দিক ঘেঁষেই যেতেন, যাতে ডান হাতে তলোয়ার চালাতে সুবিধা হয়। সেই তলোয়ার গোঁজা থাকতো বাম কোমরে। যাতে তলোয়ার বের করার সময় জামা বা কোটের বোতামের খাঁজে আটকে না যায়, সেজন্যই বোতাম বসানো হতো ডান দিকে। তাছাড়া সেই আমলে রাজা কিংবা সেনানী, ডান হাতে তলোয়ার ধরে প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হতো। খালি থাকতো বাম হাত। বাম হাতে শার্ট বা কোটের বোতাম খোলার সুবিধার জন্যই বোতাম বসানো হতো ডান দিকে।

অন্যদিকে মেয়েরা যখন ঘোড়ায় চড়তো, বর্তমানে মোটর সাইকেলে বসেন, দুটো পা-ই সাধারণত বাম দিকে থাকে। শার্টের ভেতরে যেন বাতাস ঢুকতে না পারে, সেজন্যই বোতাম বসানো হয় বাম দিকে। আরেকটি যুক্তি হলো, নারীদের ক্ষেত্রে ছোট বাচ্চাকে বাম দিকে ধরতে সুবিধা হয় এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় ডান হাতে শার্টের বোতাম খুলতে হয়। সেক্ষেত্রে বোতাম ডান দিকে থাকলে তা খুলতে কষ্ট হয়। বিষয়টা মাথায় রেখেই বোতাম বাম দিকে বসানো হয়।

আরো একটি তত্ত্ব হলো, অনেক ক্ষেত্রে একজন দর্জিকে একসঙ্গে ছেলে-মেয়েদের শার্ট বানাতে হয়। ছেলে ও মেয়েদের শার্ট যেন মিশে না যায়, প্রয়োজনে করে আলাদা করে নেয়ার সুবিধা রাখতে দর্জি ছেলেদের শার্টের বোতাম ডান দিকে আর মেয়েদের শার্টে বাম দিকে বসায়।