আজ আন্তর্জাতিক নদী দিবস

সংগৃহীত ছবি

আজ রোববার বিশ্ব নদী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘রাইটস অব রিভার’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিবসটি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও সংস্থার উদ্যোগে রাজধানীর একটি হোটেলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

জাতীয় নদী কমিশনের উদ্যোগে রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের নদ-নদী: সংজ্ঞা ও সংখ্যা’ এক শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

এই সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মারগুব মোর্শেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী।

এছাড়া বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বিভিন্ন জেলায় এবং ‘রিভারাইন পিপল’ রংপুর ও পাবনায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার বিশ্ব নদী দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল বিসি রিভারস ডে পালন দিয়ে। ১৯৮০ সালে কানাডার খ্যাতনামা নদীবিষয়ক আইনজীবী মার্ক অ্যাঞ্জেলো দিনটি ‘নদী দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিসি রিভারস ডে পালনের সাফল্যের হাত ধরেই তা আন্তর্জাতিক রূপ পায়।

২০০৫ সালে জাতিসংঘ নদী রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরি করতে ‘জীবনের জন্য জল দশক’ ঘোষণা করে। সে সময়ই জাতিসংঘ দিবসটি অনুসমর্থন করে। এরপর থেকেই জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা দিবসটি পালন করছে, যা দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে এ দিবস পালিত হচ্ছে।

নদনদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে নদনদী রক্ষায় কাজ করছে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এর মধ্যে নদীর পানির প্রবাহ ঠিক রাখা ও দখল রোধে প্রধান দায়িত্ব পালন করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীপাড়ের বন্দরগুলো দেখভালের দায়িত্ব নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের। আর নদীর দূষণ ঠেকানোর কাজে রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। নদীর দখল ও পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে কাজ করছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।